নতুন ভোটারের জন্য আবেদন
বাংলাদেশের নাগরিকের ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পরপরেই ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন করতে পারবে। তবে ভোটাধিকার পেতে বয়স ১৮ পূর্ণ হতে হবে।
NID কার্ড লাইফের প্রতিটা মুহুর্তে প্রয়োজন হয়। সরকারি যেকোনো সেবা কিংবা চাকরি প্রতিটা সেক্টরে ভোটার আইডি কার্ড প্রয়োজন।
এই পর্যায়ে নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করতে কি যোগ্যতা থাকতে হয়, কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন ও আবেদন করার সম্পুর্ণ নিয়ম সম্পর্কে জানাবো।
নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা
একজন ব্যক্তির নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা হিসেবে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হবে, সেগুলো হলো:
- আবেদনাধীনকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- বয়স ১৬ কিংবা এর উর্ধে হতে হবে।
- পূর্বে NID এর জন্য আবেদন করেনি এমন কন্ডিশন।
ভোটার আইডি কার্ড করতে কি কি লাগে?
এই পর্যায়ে জানাবো সেসকল ডকুমেন্টস সম্পর্কে যেগুলো প্রয়োজন হবে ভোটার আইডি কার্ড করতে:
- JSC, SSC কিংবা সমমান পরিক্ষার সার্টিফিকেটের ফটোকপি
- ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন পত্রের সনদ
- পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কপি (যদি শিক্ষাগত সার্টিফিকেট না থাকে)
- পিতা-মাতা, স্বামী/স্ত্রীর NID কার্ডের কপি
- Utility Bill এর কপি/হোল্ডিং ট্যাক্স এর কপি
- আবেদনাধীন ব্যক্তির নাগরিকত্বের সনদ
- নতুন ভোটার হওয়ার অঙ্গিকারনামা
অনলাইনে নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করার নিয়ম
যেমনটা বলেছিলাম বয়স ১৬ হওয়ার পরপরই নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। একটা সময় ছিলো যখন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও কাউন্সিল অফিসে ঘুড়তে হতো।
তবে এখন কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে দিয়েছে কারণ বর্তমানে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমেই নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই পর্যায়ে অনলাইনে নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবো ধাপে ধাপে।
১ম ধাপ: একাউন্ট খোলা
প্রথমেই যেকোনো ব্রাউজার থেকে গুগল সার্চ করুন “NID BD” অথবা এই লিংকে [https://www.nidw.gov.bd] ক্লিক করে সরাসরি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চলে যান।
নিচের ছবিতে প্রদর্শিত স্থানে (NID Online Service) ক্লিক করুন।

এবার আপনাকে নতুন একটি পেজে নিয়ে আসবে, এখানে দুইটা অপশন পাবেন। ১) একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন; ২) নতুন আবেদন করুন। যেহেতু এই পর্যায়ে আপনি নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন তাই ২য় অপশনটি ক্লিক করুন।

এবার আরো একটি নতুন পেজে নিয়ে আসবে। এখানে আপনাকে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। আপনার পুরো নাম, জন্ম তারিখ ও ক্যাপচা পূরণ করে সহজেই একাউন্ট খোলার কাজটি করতে পারবেন।

তথ্য গুলো সাবমিট করে বহাল নামক অপশনটি ক্লিক করলে নতুন পেজে নিয়ে আসবে যেখানে একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে যাচাই করতে হবে। সব শেষ হলে পুনরায় “বহাল” নামক অপশনে ক্লিক করুন।

এবার একাউন্টের একটি Username এবং একটি শক্ত password দিতে হবে। পাসওয়ার্ড অবশ্যই অক্ষর, সংখ্যা ও স্যাম্বল চিহ্ন দিয়ে তৈরি করতে হবে। ব্যাস, আপনার একাউন্ট খোলার কাজ শেষ হবে। এরপর “বহাল” অপশনে ক্লিক করুন।

২য় ধাপ: ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করুন
এবার একাউন্টে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্যসহ আরো অনেক তথ্য। ধাপে ধাপে সেসব এখন দেখাবো। নিচের দেয়া ছবি অনুসরণ করুন এবং প্রোফাইল অপশনে ক্লিক করে তথ্য দেয়া শুরু করুন।

প্রথমেই ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে, এরপর অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য আর সবশেষে ঠিকানা সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে। তাই ব্যক্তিগত তথ্য অপশনটি সিলেক্ট করে এডিট অপশনে ক্লিক করুন।

এই পর্যায়ে আপনার নাম, লিঙ্গ, রক্তের গ্রুপ, জন্ম নিবন্ধন, জন্মস্থান ইত্যাদি অটোমেটিকভাবে ফিলাপ হয়ে যাবে, যদি না হয় তবে দিয়ে দিবেন। এরপর পিতা-মাতার তথ্য দিতে হবে। পিতা-মাতার ব্যক্তিগত তথ্য সেকশনে যেসব তথ্য দিতে হবে সেগুলো হলো:
- পিতা-মাতার নাম বাংলায়
- পিতা-মাতার নাম ইংরেজি
- এরপর পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার
- পিতার ভোটার নাম্বার
- মৃত্যুর সনদ (মৃত হলে)
তাছাড়া অভিবাভকের তথ্য, বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে হবে। যদি বৈবাহিক অবস্থা বিবাহিত হয় তবে স্বামী/স্ত্রীর নাম অবশ্যই উল্লেখ্য করতে হবে।

এবার আপনার অন্যান্য কিছু তথ্য দিতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা
- পেশা
- ধর্ম
- অসমর্থতা (প্রযোজ্য হলে)
- সনাক্তকরণ চিহ্ন (যদি থাকে)
- টিন নাম্বার (ঐচ্ছুক)
- ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)
- পাসপোর্ট (যদি থাকে)
এই তথ্য গুলো যথাযথ ভাবে পূরণ করুন সবশেষে মোবাইল নাম্বার সাবমিট করুন এবং তথ্য দেয়া বহাল রাখুন।

৩য় ধাপ: যোগাযোগের ঠিকানার তথ্য
এই পর্যায়ে আপনার বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিতে হবে। যদি আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা ভিন্ন হয় তবে যে স্থানের ভোটার হতে চাচ্ছেন সেই স্থানটি সিলেক্ট করে দিন।
এই পর্যায়ে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার বিভিন্ন তথ্য যেমন:
- বিভাগ
- জেলা
- উপজেলা
- আর. এম. ও
- সিটি কর্পোরেশন
- ইউনিয়ন
- মৌজা
- ইউনিয়ন ওয়ার্ড
- পোস্ট অফিস
- পোস্ট কোড ইত্যাদি
তথ্য গুলো দিয়ে দিন। সব ঠিক ভাবে সম্পন্ন হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হোন।

আমরা এবার একেবারে শেষের দিকে চলে এসেছি, এই পর্যায়ে এসে আরেকবার সব কিছু চেক করে নিন, কেননা সাবমিট অপশনে ক্লিক করলে আর ইডিট করা যাবে না। ইডিট করা হয়ে গেলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।


সাবমিট করা হয়ে গেলে নতুন পেজে রিডাইরেক্ট হবে এবং একটি ডাউনলোড বাটন দেখতে পারবেন। সেখানে ক্লিক করে পুরো ফরমটি ডাউনলোড করে নিন, পরবর্তীতে প্রয়োজন হবে।
ভোটার কার্ড যখন চলে আসবে তখন আবেদনপত্র সহীত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ইউনিয়ন পরিষদ/কাউন্সিল অফিসে গিয়ে জমা দিয়ে NID কার্ড নিয়ে আসতে হবে।
ভোটার আইডি কার্ড চেক
বিভিন্ন সময়ে ভোটার আইডি কার্ড আসল কি-না সেটার চেক করার প্রয়োজন পরে। এমতাবস্থায় সহজ কিছু ধাপ অনুসরণ করে যেকারো ভোটার আইডি কার্ড চেক করা যায়। বিশেষ করে যারা নতুন ভোটার তাদের মধ্যেই ভোটার আইডি কার্ড চেক করার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়। এবার তাহলে ৩টি পৃথক মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম জেনে নেই।
ফরম নাম্বার দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড চেক
ফরম নাম্বার দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে হলে আবার চলে যেতে হবে রেজিস্ট্রেশন পেজটিতে। সেখানে গিয়ে আপনার একাউন্টে লগিন করে নিতে হবে। যদি একাউন্ট খোলা না থাকে তবে খুলে নিন।
১) এক্ষেত্রে একাউন্ট রেজিস্ট্রশনের জন্য Form নাম্বারটি দিন, তবে ফরম নাম্বারটির আগে অবশ্যই NIDFN এই অক্ষর গুলো বসিয়ে দিতে হবে। এরপর স্বাভাবিক নিয়মেই জন্ম তারিখ ও ক্যাপচা পূরণ করে পবর্তী ধাপে যান।

২) এবার আপনি মোবাইল নাম্বারটি ভেরিফাই করবেন এবং সেটি হয়েগেলে আপনাকে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দেয়ার অপশন দেখাবে। যদি এটা দেখায় তবে বুঝে নিতে হবে যে আপনার NID সম্পর্ণ হয়েছে। আর যদি না দেখায় তবে বুঝে নিতে হবে NID এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩) যাইহোক, এর পরের কাজটি হবে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করে ফেস ভেরিফিকেশন করা অতঃপর আপনার সামনে ভোটার আইডি কার্ডের সফট ভার্সন বা অনলাইন কপি প্রদর্শিত হবে আর সেটা চেক করতে পারবেন।
NID নাম্বার দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড চেক
জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বারের সাহায্যে খুব সহজেই ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন ভোটারের নাম, ঠিকানা ও ছবিসহ। এক্ষেত্রে আপনাকে নিচে উল্লেখ্যিত ধাপ গুলো অনুসরণ করতে হবে।
প্রথমেই চলে যেতে হবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। ড্যাশবোর্ড থেকে পেনশন রেজিস্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করুন।

এবার রেজিস্ট্রেশন বিষয়ক একটি নির্দেশনা দেখাবে ও সম্মতি চাইবে। যেহেতু আমরা পেনশন করার জন্য আসিনি তাই এগুলো দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আপাতত সম্মতি দিয়ে কন্টিনিউ করুন।

এবার প্রথম অপশন থেকে Random একটা স্কিম সিলেক্ট করুন, তারপর আপনার NID কার্ডের নাম্বারটি বসিয়ে দিন পরের ঘরে। একই ভাবে জন্ম তারিখ ও মোবাইল নাম্বার টাইপ করে সবশেষে ক্যাপচা পূরণের মাধ্যমে পরবর্তী পেজে চলে যান।

এই পেজে আসার পর আপনার মোবাইলে একটি OTP আসবে যা এখানে সাবমিট করতে হবে। সাবমিট করা হয়ে গেলে পরবর্তী পেজে যান অপশনে ক্লিক করুন।

এবার আপনার সামনে যে পেজটি ওপেন হবে এখানে উক্ত NID কার্ড Holder এর সকল তথ্য প্রদর্শিত হবে। নাম ঠিকানা থেকে শুরু করে ছবি অব্দি এখানে প্রসর্শিত হবে।

মূলত এভাবেই খুব সহজে কোনো ফেস ভেরিফিকেশন ছাড়াই যেকারো NID নাম্বার যাচাই করতে পারবেন। এটা বেশ কার্যকর হয় যখন আপনি অন্য কারো ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার চেক করতে যাবেন।
SMS এর মাধ্যমে নতুন ভোটার আইডি চেক
যেসকল ভোটাররা নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন এবং জানতে চাচ্ছেন আপনার ভোটার আইডি কার্ডটি হয়েছে কি-না বা NID কার্ডের নাম্বার কি, তারা SMS এর মাধ্যমে খুব সহজেই এই কাজটি করতে পারবেন। এর জন্য আপনার করণীয় হবে।
১) আপনার মোবাইলের ম্যাসে অপশনে যান।
২) এবার To এর স্থানে ১০৫ টাইপ করুন
৩) ম্যাসেজ অপশনে টাইপ করুন NID <স্পেস> Form Number <স্পেস> DD-MM-YYYY
৪) এবার পাঠিয়ে দিন। (SMS charge প্রযোজ্য)
ফিরতি ম্যাসেজে আপনাকে NID কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দিবে, অথবা যদি কার্ডটি এখন অব্দিও সম্পন্ন না হয়ে থাকে সেটিও জানিয়ে দিবে।
ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড
আপনার ভোটার আইডি কার্ড যদি চলে আসে তবে অবশ্যই একটি অনলাইন কপি বা সফট কপি ডাউনলোড করে রেখে দেয়া ভালো। আবার অনেকের ক্ষেত্রে হার্ড কপি আসতে সময় নেয়, এমতাবস্থায় অনলাইন কপি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। এই পর্যায়ে ধাপে ধাপে যেখাবো কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করবেন।
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে যা যা দরকার
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার পূর্বেই জেনে নিতে হবে কার্ডটি ডাউনলোড করতে কি কি লাগবে। প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো হলো:
১) জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার
২) মোবাইল নাম্বার
৩) বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
৪) NID Wallete মোবাইল অ্যাপ
৫) আবেদনাধীন ব্যক্তির ফেস ভেরিফিকেশন
ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম
আপনার ভোটার আইডি কার্ড যখন সম্পন্ন হয়ে যাবে তখন হার্ড কপি হাতে আসুক কিংবা না আসুক যেকোনো সময় খুব সহজেই অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। এক্ষেত্রে চলে যেতে হবে [https://services.nidw.gov.bd/nid-pub] ওয়েবসাইটে।
১ম ধাপ: অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন
যদি পূর্বে একাউন্ট খুলে থাকেন তবে সরাসরি লগিন করুন এবং ফেস ভেরিফিকেশনের পরের ধাপ থেকে অনুসরণ করুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য।

ধরে নিচ্ছি আপনার একাউন্ট নেই, এক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করুন নামক অপশনে ক্লিক করুন। এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার, জন্ম তারিখ, ও ক্যাপচা পূরণ করে সাবমিট করুন।

এবার একাউন্ট রেজিস্ট্রারের ২য় ধাপ তথা বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা বিস্তারিত তথ্য দিন।

পরের পেজে আপনাকে একটি নাম্বার দেখানো হবে, এটা প্রধানত হয় যখন আগেও একবার একাউন্ট খোলা থাকে। যাইহোক, নাম্বারটি আপনার কাছে থাকলে বার্তা পাঠান নামক অপশনে ক্লিক করুন, নয়তো মোবাইল পরিবর্তন অপশনে ক্লিক করে নতুন নাম্বার দিন।

আপনার নাম্বারে একটি OTP কোড যাবে, সেটা ১ মিনিটের মধ্যে এখানে সাবমিট করে বহাল অপশনে ক্লিক করুন।

২য় ধাপ: ফেস ভেরিফিকেশন
এই ধাপটি হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, এই ধাপে আপনাকে আরেকটি ফোন থেকে একটি অ্যাপ ইন্সটল করতে হবে। অ্যাপটির নাম হলো NID Wallet অ্যাপটি প্রথমে ইন্সটল করতে হবে, সেটি ওপেন করে ফেস ভেরিফিকেশন করতে হবে।

সরাসরি প্লে স্টোরে সার্চ করেও অ্যাপটি পাবেন।

অ্যাপটি ওপেন করার পর একটি স্ক্যানার চালু হবে। এটিকে নিয়ে যাবেন ওয়েবসাইটে এবং সেখানে থাকা QR কোডটি স্ক্যান করবেন। সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা ওপেন হবে ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী চেহারার মুভমেন্ট করুন। আর ভেরিফিকেশন শেষ হলে অ্যাপ এর কাজ শেষ। আবার চলে যান ওয়েবসাইটে।
ফেস ভেরিফিকেশন শেষে এবার আপনাকে পাসওয়ার্ড সেট করতে বলা হবে। আপনি চাইলে পরবর্তী ব্যবহারের সুবিধার্থে পাসওয়ার্ড সেট করতে পারবেন আবার পাসওয়ার্ড ছাড়াই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

৩য় ধাপ: ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড
ফাইনালি, শেষ পর্যায়ে চলে আসছি। এবার আপনার সামনে ড্যাশবোর্ড ওপেন হবে যার একেবারে শেষের দিকে থাকবে “ডাউনলোড” অপশন সেটাতে ক্লিক করলেই একটা পিডিএফ ডাউনলোড হয়ে যাবে, আর সেটাই হলো আপনার ভোটার আইডি কার্ড।

এই ছিলো ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম সম্পূর্ণ। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার এটি ছাড়া অন্য কোনো নিয়ম নেই।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন
এটা খুব অস্বাভাবিক নয় যে আপনার ভোটার আইডি কার্ডে বিভিন্ন ধরণের ভুল (যেমন – নামের বানান, জন্মতারিখ ইত্যাদি) রয়েছে। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, কারণ যেখানে ভুল সেখানেই আছে শুধরে নেয়ার সুযোগ। এই পর্যায়ে জানাবো ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে?
১. পিতা, মাতা বা স্বামীকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা থাকলে সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
২. বিবাহিত নয়, অথচ পরিচয়পত্রে “বিবাহিত” উল্লেখ থাকলে, আবেদন করার সময় অবিবাহিত মর্মে ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা থেকে প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
৩. বিয়ের পর স্বামীর নাম যুক্ত করতে হলে নিকাহনামা এবং স্বামীর আইডি কার্ডের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
৪. তালাকের পর স্বামীর নাম বাদ দিতে চাইলে তালাকনামা আপলোড করতে হবে।
৫. নতুন বিয়ের পর বর্তমান স্বামীর নাম যুক্ত করতে হলে তালাকনামা ও নতুন বিয়ের কাবিননামা জমা দিতে হবে।
তাছাড়া বয়স, ছবি, স্বাক্ষর পরিবর্তন, পিতামাতা বা স্বামীর নামের বানান সংশোধন ইত্যাদি তথ্য পরিবর্তন করতে হলে নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। যেমন:
ছবি পরিবর্তন: যদি বর্তমান চেহারার সাথে পুরানো ছবির মিল না থাকে, তাহলে সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ছবি পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে হবে। অনলাইনের মাধ্যমে এটি করা যায় না। একই নিয়ম প্রযোজ্য স্বাক্ষর পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও।
নাম সংশোধন: পিতা, মাতা, বা স্বামীর নামের বানান ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য এসএসসি সনদ, পাসপোর্ট, বা জন্ম সনদসহ প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
বয়স বা জন্ম তারিখ পরিবর্তন: বয়স বা জন্ম তারিখ পরিবর্তনের জন্য এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্তাহিত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এসএসসি বা সমমানের সনদ না থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল সনদপত্র কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ডাক্তারি পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন করার নিয়ম
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে, শুরুতেই আপনাকে যেকোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করতে হবে। সেটা আপনি কম্পিউটার দিয়েও করতে পারবেন, মোবাইল দিয়েও করতে পারবেন। ব্রাউজার ওপেন করে সার্ভিসের এই ওয়েবসাইটটিতে এসে আপনাকে একটি একাউন্ট করতে হবে। (ইতিমধ্যে একাউন্ট রেজিস্ট্রার করার পদ্ধতি উপরে দেখানো হয়েছে)
১ম ধাপ: একাউন্টে লগিন করা
একাউন্ট করা হয়ে গেলে, আপনি আপনার একাউন্টে লগইন করবেন। লগইন করলেই দেখতে পাবেন আপনার সামনে ড্যাশবোর্ড ওপেন হবে।

এখানে দেখতে পাচ্ছেন, চারটি অপশন রয়েছে: প্রোফাইল, রিইস্যু, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং ডাউনলোড। যেহেতু আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করবো, তাই প্রোফাইলে ক্লিক করতে হবে।

২য় ধাপ: তথ্য সংশোধন
প্রোফাইলে ক্লিক করার পর দেখতে পাবেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের সকল তথ্য চলে এসেছে। এখান থেকে যে তথ্যগুলো সংশোধন করতে চান, সেগুলো এডিটে ক্লিক করে সংশোধন করবেন। উদাহরণসরূপ আমি এখানে সংশোধন করবো রক্তের গ্রুপ।

এক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ সিলেক্ট করতে হবে এবং রক্তের গ্রুপ অপশন গুলো থেকে সঠিক রক্তের গ্রুপ সিলেক্ট করে দিতে হবে। সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে, এবার আবেদনটি সাবমিট করতে হবে।

এজন্য পরবর্তীতে ক্লিক করবেন। তারপর, জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধনকৃত তথ্যগুলো দেখতে পাবেন। এখানে রক্তের গ্রুপ পরিবর্তনের তথ্য দেখা যাবে।
৩য় ধাপ: সার্ভস চার্জ প্রদান
এবার পেমেন্টের ধাপে যেতে হবে।

বিকাশ বা যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবেন। পে বিল অপশনে ক্লিক করে “এনআইডি সার্ভিস” সিলেক্ট করে পরবর্তী ধাপে যাবেন।

অতঃপর, আবেদনের ধরণ ও NID নাম্বার দিয়ে দিলে কত টাকা চার্জটা অটমেটিকভাবেই নিয়ে নিবে, পেমেন্ট সম্পন্ন করে পূর্বের স্থানে ফিরে যান।

এখানে এসে পেজটির পরবর্তী অপশনে ক্লিক করলে আপনি যে টাকা দিয়েছেন তা দেখাবে। এবার বিতরণের ধরন সিলেক্ট করে দিবেন আর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করবেন।
৪র্থ ধাপ: ডকুমেন্টস সাবমিট করা

এই পর্যায়ে আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হবে। আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন ব্লাড গ্রুপ রিপোর্ট (যেহেতু ব্লাড গ্রুপ পরিবর্তন করা হয়েছে) আপলোড করতে হবে। সঠিক কাগজপত্র না দিলে, আপনার আবেদনটি গ্রহণ হবে না। তাই উপরে উল্লেখ্যিত ডকুমেন্টসের তথ্য অনুযায়ী কাগজপত্র সাবমিট করবেন।

৫ম ধাপ: আবেদন ফরম ডাউনলোড
সাবমিট অপশনে ক্লিক করার পর আবেদনটি সম্পুর্ণ হয়ে যাবে এবং আবার ড্যাশবোর্ডে Redirect করলে পুনরায় প্রোফাইল অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিচের দেয়া ছবির মত একটা ইন্টারফেস আসবে যেখানে একটি ডাউনলোড অপশন পাবেন।

ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে ফাইলটি PDF-টি ডাউনলোড করে রাখুন। এটি পুরো আবেদনপত্রের পিডিএফ। এটা তখন প্রয়োজন হবে, যখন ইউনিয়ন পরিষদ/কাউন্সিল অফিস থেকে সংশোধিত ভোটার আইডি কার্ডটি সংগ্রহ করতে যাবেন। ব্যাস, আপনার কাজ শেষ। আর এর সাথে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন করার নিয়ম সম্পন্ন হলো।